
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ভরিতে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা।
বাজুসের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত স্বর্ণমূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৫ বার কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে সারা বছরজুড়ে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।
এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ৩১ জানুয়ারি সকালে নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ২৯০ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকায়।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দামে মোট ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ বার দাম বেড়েছে এবং ৫ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার—যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।

