একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমেই দেশব্যাপী কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অর্জন করা যাবে।

একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমেই দেশব্যাপী কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অর্জন করা যাবে।

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ, জুস প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং পাটশিল্প পুনর্জাগরণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার বিকেলে তিন দিনের উত্তরাঞ্চল সফরের শেষ নির্বাচনী সমাবেশে টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এবং সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে শুধু টাঙ্গাইল নয়, সারা বাংলাদেশেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নে দেশের প্রকৃত মালিক—জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। জনগণ যদি বিএনপির পাশে থাকে, দলটিকে সমর্থন দেয় এবং এগিয়ে যেতে সহায়তা করে, তাহলে বিএনপি ধীরে ধীরে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে আয়োজিত ওই সমাবেশে তিনি টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য ভোট চান। প্রার্থীরা হলেন—ফকির মাহবুব আনাম (টাঙ্গাইল-১), আবদুস সালাম পিন্টু (টাঙ্গাইল-২), এস এম ওবায়দুল হক (টাঙ্গাইল-৩), লুৎফর রহমান (টাঙ্গাইল-৪), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-৫), রবিউল আওয়াল (টাঙ্গাইল-৬), আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৭) এবং আহমেদ আযম খান (টাঙ্গাইল-৮)।

সমাবেশে তারেক রহমান নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখনো কিছু মহল বিভিন্ন কৌশলে ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে কেউ কেউ এনআইডি নম্বর ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য সংগ্রহের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা বিভ্রান্তির উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।

তিনি উপস্থিত মা-বোন ও ভাইদের অনুরোধ করে বলেন, ঘরে ফিরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সবাইকে সতর্ক করতে হবে। বিশেষ করে মুরুব্বিদের সচেতন করতে হবে, যেন ভোটের আগে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফাঁদে কেউ না পড়ে। যারা ভোটের অধিকার নষ্ট করতে চায়, সুযোগ পেলে তারাই দেশ বিক্রি করবে—এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আগামীর দিন হচ্ছে দেশ গড়ার দিন, মানুষের ভাগ্য বদলের দিন এবং একটি শুভ যাত্রার সূচনা। সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকে, তাহলে কোনো শক্তিই জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না—ইনশাআল্লাহ।

টাঙ্গাইলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ এলাকার দাবিগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হলে এবং ১৩ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হবে। তিনি টাঙ্গাইলকে একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ি তার রং ও নকশার জন্য বিখ্যাত। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এই শাড়িও দেশের গার্মেন্টস পণ্যের মতো বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, টাঙ্গাইলে তৈরি টুপি ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই শিল্পকে আরও সম্প্রসারণ করলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সার্বিকভাবে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে টাঙ্গাইলকে ধাপে ধাপে একটি শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।

জেলা বিএনপি সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সাবুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাইয়েদুল আলম বাবুল, বেনজীর আহমেদ টিটু, সাঈদ সোহরাব, শামসুজ্জামান সুরজসহ টাঙ্গাইলের আটটি আসনের প্রার্থীরা।

উত্তরাঞ্চল সফরের প্রথম দুই দিনে তারেক রহমান রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও রংপুরে চারটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। সফরের শেষ দিনে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে সমাবেশ শেষে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *