বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা যারা করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করতে বলেছেন তারেক রহমান।

বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা যারা করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করতে বলেছেন তারেক রহমান।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের অধিকার আবারও কেড়ে নেওয়া না যায়। তিনি বলেন, অনেকেই জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা এমন অপচেষ্টা করবে, তাদের দেখামাত্র ‘গুপ্ত’ বলে চিহ্নিত করতে হবে। কারণ, গত ১৬ বছর তাদের দেখা যায়নি; তারা ছিল সেইসব মানুষের সঙ্গে, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গেছে।

আজ শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী এলাকায় বিসিক শিল্প পার্ক প্রাঙ্গণে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় সিরাজগঞ্জের ছয়টি এবং পাবনার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন দলের চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, আজ এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ একত্র হয়েছেন। তিনি চাইলে প্রতিপক্ষ নিয়ে অনেক কথা বলতে পারতেন, তবে তাতে জনগণের কোনো উপকার হতো না। তার ভাষায়, এখন দেশের মানুষ জানতে ও দেখতে চায়—কোন রাজনৈতিক দল দেশ ও জনগণের জন্য কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বিএনপি সেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেছে এবং বর্তমানে একমাত্র দল হিসেবে বিএনপিরই অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার। মানুষ বিশ্বাস রাখে অভিজ্ঞতার ওপর, আর সেই অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপির মধ্যেই রয়েছে।

উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যেমন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি রয়েছে, তেমনি রয়েছে ছোট ও মাঝারি শিল্প-কারখানা। কৃষিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ তরুণ-যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। নতুন শিল্প পার্ক গড়ে তুলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। উত্তরাঞ্চল যেহেতু কৃষিনির্ভর, তাই ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সমগ্র উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

তাঁতশিল্প প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তাঁত, লুঙ্গি ও রঙিন কাপড়ের কথা উঠলেই প্রথমেই সিরাজগঞ্জ-পাবনার নাম চলে আসে। এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় নারীদের শিক্ষার জন্য নেওয়া উদ্যোগের ফলে ক্লাস ওয়ান থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনা খরচে চালু হয়েছিল। আগামী বিএনপি সরকার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চায়। সে লক্ষ্যেই প্রতিটি মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দিয়ে ধীরে ধীরে গৃহিণীদের আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষকদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষকরা সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে দেশের মানুষের খাদ্য জোগান দেন। বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়াতে চায়। সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া সুবিধা নিতে না পারে। এ জন্য চালু করা হবে ‘কৃষক কার্ড’।

তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক তরুণ আইটি খাতে কাজ করছে—তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি যারা বিদেশে যেতে চান কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পান না, তাদের জন্য সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ট্রেনিং সেন্টার ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা দক্ষতা অর্জন করে ভালো বেতনের চাকরি নিয়ে বিদেশে কাজ করতে পারেন।

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুরা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তাঁদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক সম্মানী প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

শেষে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ১২ তারিখে জনগণ যদি ধানের শীষকে বিজয়ী করে, তাহলে ১৩ তারিখ থেকেই এসব উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে ইনশা আল্লাহ। পাশাপাশি নষ্ট হয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল সংস্কার এবং চিকিৎসাসেবার উন্নয়নেও বিএনপি সরকার অগ্রাধিকার দেবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *