মাসব্যাপী ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)–২০২৬ শেষ হয়েছে। এবারের মেলা থেকে প্রায় ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশ এসেছে। পাশাপাশি মেলায় আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে রেস্তোরাঁর বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
আজ শনিবার ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
আয়োজকেরা জানান, এবারের মেলায় মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ছিল।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, দেশে উৎপাদিত অনেক সম্ভাবনাময় পণ্যের উদ্যোক্তারা এখনও মেলায় অংশগ্রহণ করছেন না। প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে এসব উদ্যোক্তাকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, এই মেলা জাতীয় সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ। প্রয়োজনে স্বল্পমূল্যে বা বিনা মূল্যে স্টল প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। শিল্পপণ্য, রপ্তানি পণ্য ও গৃহস্থালি পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
পুরস্কার পেল যেসব প্রতিষ্ঠান
সমাপনী অনুষ্ঠানে নির্মাণশৈলী, পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন মানদণ্ডে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে সেরা হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।
প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, দ্বিতীয় আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেড এবং তৃতীয় হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড।
প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন গোল্ড ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড ও কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
জেনারেল প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে কারা অধিদপ্তর (বাংলাদেশ জেল) ও ঢাকা আইসক্রিম লিমিটেড।
মিনি প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে ডিভাইন কার্পেট অ্যান্ড ফ্লোরিং লিমিটেড।
প্রিমিয়ার স্টল ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে জেএমজি ইন্টারন্যাশনাল।
প্রিমিয়ার মিনি স্টল বিভাগে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে আকতার ফার্নিশার্স।
রিজার্ভ স্টল, জেনারেল স্টল, ফরেন মিনি প্যাভিলিয়ন, ফরেন প্রিমিয়ার স্টল ও নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতেও বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান পুরস্কার অর্জন করে।
নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য
মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—কারা অধিদপ্তরের বাঁশজাত পণ্য, জয়িতা ফাউন্ডেশনের ডাইভারসিফাইড পাটপণ্য ও হারবাল চা, বিসিকের ভেজিটেবল ডাইং পোশাক, তাঁত বোর্ডের ঢাকাই মসলিন, জেডিপিসির পাটের ট্যাপেস্ট্রি, অ্যাপেক্স ফুডসের রেডি-টু-ইট খাবার এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের রোজেলা ও ব্লু টি।
রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে মেলার পাশাপাশি আটটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন ছিল। শেষ দিনে মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দর্শনার্থীদের যাতায়াত সুবিধায় ২০০টির বেশি বিআরটিসি বাস চলাচল করেছে বলে জানানো হয়।
