প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু—উভয়ের শরীরেই কৃমির সংক্রমণ হতে পারে। থ্রেডওয়ার্ম, রাউন্ডওয়ার্ম, হুইপওয়ার্ম, টেপওয়ার্ম ও হুকওয়ার্মের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। পিনওয়ার্ম ও থ্রেডওয়ার্মসহ কিছু কৃমির ডিম এতটাই সূক্ষ্ম যে খালি চোখে দেখা যায় না। এমনকি বাতাসের মাধ্যমেও এসব কৃমির ডিম ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যেভাবে শরীরে কৃমি প্রবেশ করে
দূষিত খাবার ও পানি, অপরিষ্কার হাত, মাটি কিংবা সংক্রমিত মল-মূত্রের সংস্পর্শে এলে কৃমির ডিম বা লার্ভা শরীরে ঢুকে পড়তে পারে। অনেক সময় খোলা পায়ে হাঁটা বা দীর্ঘ সময় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকার ফলে ত্বকের মাধ্যমেও কৃমি শরীরে প্রবেশ করে।
এ ছাড়া খাওয়ার আগে হাত না ধোওয়া, অপরিশোধিত দুধ পান করা, সবজি ভালোভাবে না ধুয়ে রান্না করা, অপরিষ্কার সুইমিং পুলে গোসল করা কিংবা পোষ্য প্রাণীর সংস্পর্শেও কৃমির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
কৃমি শরীরে কী ক্ষতি করে
অন্ত্রে প্রবেশের পর কৃমি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নেয়। এর ফলে রক্তাল্পতা, দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, বমিভাব ও চুলকানির মতো নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নিলে কৃমির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কৃমি যকৃত ও ফুসফুসে সিস্ট বা গুটি সৃষ্টি করতে পারে। ফুসফুসে সংক্রমণ হলে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং মস্তিষ্কে পৌঁছালে মারাত্মক স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।
শরীরে কৃমি থাকার ৫টি লক্ষণ
১. ক্ষুধার অস্বাভাবিক পরিবর্তন
কৃমি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। ফলে কারও ক্ষুধা কমে যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পুষ্টি শোষিত হয়ে যাওয়ায় শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
২. ওজন কমে যাওয়া ও সার্বক্ষণিক ক্লান্তি
ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি ওজন কমতে থাকে এবং সব সময় ক্লান্ত অনুভূত হয়, তাহলে তা অন্ত্রের কৃমির লক্ষণ হতে পারে।
৩. মলের সঙ্গে কৃমি দেখা যাওয়া
মলত্যাগের সময় ছোট সাদা কৃমি দেখা গেলে তা কৃমির সংক্রমণের স্পষ্ট ইঙ্গিত। যদিও অনেক সময় কৃমি খুব ছোট হওয়ায় চোখে পড়ে না, তবে মলে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪. ঘন ঘন পেটব্যথা
কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার পেটে মোচড় বা খিঁচুনির মতো ব্যথা হলে সতর্ক হতে হবে। খাওয়ার পর বা খালি পেটে ব্যথা বাড়লে তা কৃমির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
৫. ত্বকের সমস্যা ও পায়ুপথে চুলকানি
কৃমি থেকে নির্গত বিষাক্ত উপাদান রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে পায়ুপথের আশপাশে চুলকানি হওয়া অন্ত্রের কৃমির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।