আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের বাংলাদেশে আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল, ১৬টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৩২ জন ব্যক্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন।
আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১২৫ জন এবং দশম জাতীয় নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ১৫৮ জন।
ওআইসি’র দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী আরও ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানান, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আমন্ত্রণ জানানো কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত করেনি।
যেসব দেশ এখনো প্রতিনিধি নির্ধারণ করেনি, তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসা শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করতে পারে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।